মঙ্গলবার, ১৯ Jun ২০১৮, ০২:২১ অপরাহ্ন

নোটিশ :
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে !
মেগানকে কীভাবে দেখতেন ডায়ানা?

মেগানকে কীভাবে দেখতেন ডায়ানা?

ব্রিটেনের রাজপরিবারে আর কয়েক দিন পরেই বাজবে বিয়ের বাদ্যি। প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মার্কেলের বিয়ে নিয়ে উন্মাদনা চলছে রাজপ্রাসাদের বাইরেও। এখন গণমাধ্যমের ‘হট টপিক’ এই রাজকীয় বিয়ে। মেগান-হ্যারির বিয়ের নানা খবরের ফাঁকে ফাঁকেই উঠে আসছে হ্যারির প্রয়াত মা প্রিন্সেস ডায়ানার নাম। রাজকীয় এই বিয়ে নিয়ে কিছু বলতে বললে ব্রিটিশ মডেল নাওমি ক্যাম্পবেল স্মরণ করলেন ডায়ানাকে।

‘আমি জানি, এ সময় প্রিন্সেস ডায়ানা থাকলে খুব খুশি হতেন। তাঁর ছেলে যাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছেন, তাঁকেই বিয়ে করছেন। এ জন্য তিনি নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হতেন। মেগানকেও তাঁর খুব পছন্দ হতো বলে আমার মনে হয়।’ ৭১তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে কথাগুলো বলেন সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেল। নাওমির এ মন্তব্যের পেছনে আছে ছোট ইতিহাস।

২০১৬ সাল থেকেই হ্যারি ও মেগান চুটিয়ে প্রেম করছেন। গত বছর নভেম্বর মাসের শুরুতে গোপনে তাঁদের বাগদান হয়। ওই মাসের মাঝামাঝি রাজপরিবার তাঁদের বাগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। প্রিন্স হ্যারির বাবা প্রিন্স চার্লস বাগদানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, তিনি তাঁর সন্তানের বিয়ের খবর সবাইকে জানাতে পেরে আনন্দিত।

কিন্তু প্রিন্স ও তাঁর পরিবার মেগানকে নিয়ে খুশি হলেও প্রাসাদের বাইরের অনেকে মেগানকে রাজবধূ হিসেবে এখনো মেনে নিতে পারছে না। ব্রিটিশ কয়েকটি গণমাধ্যম রীতিমতো মেগানের গায়ের রঙের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খবর প্রকাশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের সুপ্ত বর্ণবৈষম্যের বহু পুরোনো অন্ধকার দিক আবার উন্মোচিত হয়ে সবার সামনে উঠে এসেছে।

প্রথম আলোর পাঠকেরা আগেই জেনেছেন, মেগানের বাবা টমাস মার্কেল এমি পুরস্কার জয়ী একজন মার্কিন আলোকনির্দেশক। তিনি শ্বেতাঙ্গ। মেগানের মা ডোরিয়া রাডলান একজন আফ্রিকান-আমেরিকান। পেশায় যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক। পারিবারিক সূত্রে মেগান তাঁর বর্ণ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। সেই গায়ের রং নিয়েই এখন ব্রিটিশ গণমাধ্যম সরগরম। মেগান-হ্যারির বাগদানের পরপরই ব্রিটিশ পত্রিকা ‘ডেইলি মেইল’ হবু রাজবধূর পারিবারিক ঐতিহ্যকে বোঝাতে তাদের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখে ‘ফ্রম স্লেভস টু রয়্যালিটি’ (দাসত্ব থেকে রাজত্বে)। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মেগানের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন তুলাশ্রমিক। সেখান থেকে আজ রাজপরিবারের অংশ হতে চলেছেন তাঁরা। শুধু এই প্রতিবেদনই না, একই পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, মেগান মার্কেল রাজপরিবারকে উত্তম ও আকর্ষণীয় উত্তরসূরি দিতে পারবেন। কিন্তু তাঁর মা ‘ডোরিয়া’কে বলা হয় ‘দুঃখজনকভাবে গতানুগতিক চেহারার আফ্রিকান-আমেরিকান নারী’।

মেগানকে বউ হিসেবে পেয়ে ডায়ানার খুশি হওয়ার প্রসঙ্গটি তাই এমনি এমনি তোলেননি নাওমি। রাজপরিবারের নানা প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে গণমানুষের হতে চেয়েছিলেন ডায়ানা। রাজকুমারী হলেও জাতপাত মানেননি কখনো। তাঁর মতো মানুষ মেগানের বর্ণ নিয়ে কখনোই মাথা ঘামাতেন না, এটা নিশ্চিত। বরং রাজপরিবারের আমেরিকান বধূ মেগানের গায়ে কোনো সমালোচনার আঁচও লাগতে দিতেন না।

কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একটি দাতব্য ফ্যাশন শো ‘ফ্যাশন ফর রিলিফ’-এ অংশ নিতে এসে নাওমি আরও বলেন, মেগান আর হ্যারির বিয়ে পুরো বিশ্বে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। ‘ফ্যাশন ফর রিলিফ’-এর এবারের ভাবনা ‘রেস ফর ইকুয়ালিটি’ (বর্ণের জন্য সমতা)। এ নিয়ে কানে ১৩ বারের মতো এই ফ্যাশন শো আয়োজন করা হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com