শুক্রবার, ২০ Jul ২০১৮, ০২:৩০ অপরাহ্ন

নোটিশ :
বাউফল নিউজ ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগতম
টেনশন কমাতে ৫ দিন বন্ধ রাখুন ফেসবুক

টেনশন কমাতে ৫ দিন বন্ধ রাখুন ফেসবুক

সারা দিন যাই করুন না কেন, ফেসবুকে একবার ঢুঁ দেয়া চাইই চাই! ফেসবুকের মুখটা একবার না দেখলে যেন দিনটাই কেমন খালি খালি লাগে। কৌতুহলও কাজ করে প্রচণ্ড। কিন্তু এই কৌতুহল আর আসক্তি যে মানসিকতার বারোটা বাজাচ্ছে তা কি আমরা ভাবছি?

গবেষকেরা বলছেন, ক্রমেই যেভাবে আমরা ফেসবুকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছি তাতে মনের ক্ষতি কম হচ্ছে না। তাই তাদের পরামর্শ, অন্তত ৫দিন ফেসবুক থেকে দূরে থাকলে আখেরে লাভই হবে! কমবে মানসিক চাপ, উদ্বেগ আর টেনশনও।

মার্কিন সংবাদামাধ্যম সিএনবিসি জানায়, সম্প্রতি ‘জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজি’র একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিক ভ্যানম্যানের নেতৃত্বে ওই দলটি মোট ১৩৮ ফেসবুক ব্যবহারকারীকে নিয়ে গবেষণাটি করেন।

তারা দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রত্যেকের দিনে কম করে হলেও আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ফেসবুকে কাটানোর অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু গবেষণা শেষে এরিকের দল দাবি করে, ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখায় মাত্র পাঁচ দিনেই তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছে। মানসিক ভাবেও তারা অনেক ভাল বোধ করছেন।

বিজ্ঞানীরা প্রথমে ওই ১৩৮ জনের প্রত্যেককে প্রশ্নপত্র দেন। একই সঙ্গে তাদের মুখ থেকে লালার নমুনা নেওয়া হয়। গবেষণার আগে এদের প্রত্যেকেই জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে বন্ধুদের ছবি দেখে, নিজের ছবি পোস্ট করে তারা আনন্দ বোধ করেন।

কিন্তু এরিকের দলের দাবি, পাঁচ দিন পরে সেই দৃশ্যটাই বদলে গেছে। প্রথমে এদের অনেকেই ফেসবুক বন্ধ রাখতে রাজি হচ্ছিলেন না। কেউ কেউ আবার ফেসবুকেই আগাম লিখেছিলেন, ওই পাঁচ দিন তার একদম ভালো কাটবে না। বন্ধুদের এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে প্রচণ্ড মিস করবেন।

কিন্তু এরিক বলছেন, ৫ দিন পরে গবেষণায় থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মুখ থেকে আবারও লালার নমুনা নেওয়া হল। দেওয়া হয় আরও এক সেট প্রশ্নপত্র।

গবেষকেরা দেখেন, প্রত্যেকের দেহেই করটিসলের মাত্রা কমে গিয়েছে। করটিসল হচ্ছে মানবদেহের এমন একটি হরমোন যা চাপ-উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

এরপর এরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, ফেসবুক বন্ধ রাখলে মানুষের মানসিক চাপ কমতে বাধ্য। কেননা অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারে অহংকার আর হিংসা মনে চেপে বসে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ফেসবুক বন্ধুদের পোস্ট করা ভালো ভালো সব ছবি দেখে কেউ কেউ প্রচণ্ড হীনমন্যতায় ভোগেন।

তবে এই গবেষণার বেশ কিছু অসঙ্গতিও সমালোচকেরা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, যে পাঁচ দিন ওই ১৩৮ জন ফেসবুক ব্যবহার করেননি, তারা সে সময়ে কী করে কাটিয়েছেন তা গবেষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

তাদের প্রশ্ন, ফেসবুক ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও অনেক রকমের সাইট আছে। তারা কি সেই সময়টা সেখানে ঘোরাঘুরি করে কাটিয়েছেন? না কি পার্কে, সিনেমা হলে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটিয়েছেন?

ফলে প্রশ্ন থেকেই গেল!

নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com