শুক্রবার, ২০ Jul ২০১৮, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

নোটিশ :
বাউফল নিউজ ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগতম
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী?

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার আসন্ন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব এই দুই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যের যুগে দুই অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বৈশ্বিক বাণিজ্য আর বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বাজারের ওপর এর প্রভাব পড়বে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে ক্ষতির আশঙ্কা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য এই বাণিজ্য লড়াই ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের অন্তত দুজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের পরিমাণ শুক্রবার নাগাদ ৩৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পাল্টা হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের ওপর প্রায় সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে। বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দোষারোপ করে চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ‘প্রথম পদক্ষেপ নেবে না’ কিন্তু শুল্ক কার্যকর হলে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী গাও ফেং সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিলে তারা নিজেরাই আক্রান্ত হবে। তিনি বলেন, চীনে প্রস্তুত পণ্য থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানকার বিদেশি কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে চীনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিও রয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা করলেও এই লড়াইয়ের কারণে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্য পরামর্শক আকতার হোসাইন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। তিনি বলেন, এমনকি এর কারণে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের যে সমস্ত পণ্যের ওপর চীন শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে তার শীর্ষে রয়েছে সয়াবিন ও তুলার মতো কৃষিপণ্য। আর এই শুল্কের কারণে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ তুলা আমদানিকারক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। আকতার হোসাইন বলেন, ‘তুলার দাম কমে এলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের শিল্প লাভবান হবে।’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের তুলা আমদানি করে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বাংলাদেশের আরেকটি বড় আমদানি পণ্য হলো সয়াবিন। দেশের পোল্ট্রি ও মাছের খামার শিল্পে খাবার হিসেবে এটি বহুল ব্যবহৃত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের বড় বড় চালান বাতিল করার পরিকল্পনা করছে চীন। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই মার্কিন বাজারে পড়েছে। এর ফল হিসেবে বাংলাদেশ এই থেকে লাভবান হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৩৯ কোটি মার্কিন ডলারের সয়াবিন আমদানি করে থাকে।

আর আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ হলেও বাংলাদেশের জন্য তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্থনীতিবিষয়ক দূত সাহাবুদ্দিন পাটোয়ারি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এখনই আমরা অন্য যেকোনও দেশের থেকে বেশি শুল্ক দিয়ে থাকি।’

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ পণ্য হলো পোশাক, পাদুকা ও মাথায় পরার বিভিন্ন সামগ্রী এবং আনুষঙ্গিক পণ্য।

সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশি চালানগুলো গড়ে ১৫.২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে এসব পণ্য রফতানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী অন্য ২৩২টি দেশ বা অঞ্চলের কাছ থেকে নেওয়া গড় শুল্কের পরিমাণের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কের পরিমাণ বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com