সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮, ১১:২২ অপরাহ্ন

নোটিশ :
বাউফল নিউজ ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগতম
ইসিজি রিপোর্ট ও মুদি দোকানদার

ইসিজি রিপোর্ট ও মুদি দোকানদার

ডা: পঙ্কজ দাস
ছোটবেলায় লঞ্চে করে বরিশাল যেতাম। আমাদের গ্রাম থেকে বরিশালে যাবার এটাই ছিল একমাত্র মাধ্যম। ছোটছোট লঞ্চ। উপরে বলা হত আপার ক্লাশ সেখানে ভাড়া ছিল দেড়গুণ। নীচে ভাড়া কম।

আপার ক্লাশের সামনে দিয়ে বারান্দা ছিল। বারান্দায় হাঁটাহাটি করতাম। তখন স্কুলে পড়তাম। ইংলিশ প্যান্ট আর শার্ট পরা থাকতো। ফেরিওয়ালার কাছ থেকে এটাওটা কিনে খেতেখেতে তিনঘণ্টা সময় পার হয়ে যেত।

আমার লেখটা একটু অন্নপ্রসংগে। আমাদের এলাকার এক মুদিদোকানদার ছিল। লেখাপড়া জানতোনা। সে প্রায়ই বরিশাল যেত দোকানের মালামাল আনতে। পায়জামা পাঞ্জাবি পরতো।চোখে থাকতো চশমা। অন্যসময় চশমা পরতোনা।সে লঞ্চে উঠেই একটা ইংরেজি পত্রিকা কিনতেন এবং অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। মাঝেমাঝে পাতাও উল্টাতেন।
আমরা খুব মজা পেতাম এই ভেবে যে সে মুখেমুখে হিসাব পারতেন কোনও কিছু লিখতে- পড়তে পারতেননা।

বর্তমানে অনেক কোয়াক রোগীকে ইসিজি করতে দিয়ে থাকেন।আমি অবাক হই ইসিজির ইন্টারপ্রিটেসন তারা কিভাবে বুঝবে? শুধু ঐ দোকানদারের মতন তাকিয়ে তাকিয়ে ট্রেসিং দেখবে। তাই নয় কি? অথবা লেখা পড়ে রোগীকে ভুল বুঝাবে। বড়ই অদ্ভুত আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা। আবার রোগীরা তাদের কাছে যায়ও। আজকাল কোয়াকরা বুকে ব্যথা হলে হার্টের অসুক হয়েছে বলে ম্যানেজমেন্টও দেয়। রেফার করাকে তারা লজ্জাজনক মনে করে।

ইসিজি একটা জটিল বিষয়। প্রাকটিস না করলে অনেক এম.বি.বি.এস ডাঃ দেরও এটা ইন্টারপ্রেট করা সমস্যা হয়। অথচ সাধারণ রোগীকে প্রতারণা করছেন কিছু কোয়াক। ইসিজি তে যা লেখা থাকে তা সাধারণত ঠিক নয়।মেসিন বিভিন্ন ধরনের ফাইন্ডিং লিখতে পারে কিন্ত ট্রেসিংটা হল আসল।আমাদের রোগীদেরকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com