সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮, ১১:১৭ অপরাহ্ন

নোটিশ :
বাউফল নিউজ ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগতম
টাইফয়েড এবং নিউমোনিয়া সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারনা।

টাইফয়েড এবং নিউমোনিয়া সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারনা।

ডা:পঙ্কজ দাস
টাইফয়েড এবং নিউমোনিয়া দুইটি আলাদা রোগ। অনেক রোগীর এটা নিয়ে ভুল ধারনা আছে। রুগী এসেই বলে টাইফয়েড নিউমোনিয়া হয়েছে। কথাটা সঠিক নয়।

টাইফয়েড আসলে পানীয় খাদ্যবাহিত রোগ। অর্থাৎ সালমোনিলা টাইফি, প্যারাটাইফি এ ও বি জীবাণুগুলো সাধারণত খাবার ও পানি থেকে আসে, বিশেষ করে পানি। যদি ঠিকমতো ফুটানো পানি না পেয়ে থাকে, সেইটার মাধ্যমে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলি, অনেকেই বলেন, ‘আমি তো স্যার বাইরের খাবার খাই না, খেলেও গরম খাবার খাই।’ উদাহরণ হিসেবে বলে, ‘আমি তো স্যার ফুসকা-চটপটি খাই, সেটি তো আমাকে গরম করেই দিচ্ছে।’ আমি বলি, ‘ভালো। তবে সঙ্গে টকটা নেন না? ওই টকের পানি যেখান থেকে আসে, সেখান থেকে সমস্যা হতে পারে।’ সেখানে তো কয়েক ফোঁটা পানিই যথেষ্ট। তার সঙ্গে আমি আরেকটি বিষয় বলি। আমার বাসায় আমি পানি ফুটিয়ে খাই বা আমি পানি ফিল্টারে দিয়ে খাই, ঠিক আছে। তবে আমি পানি কতক্ষণ ফুটাই। এটা জানা খুব জরুরি। পানি ফুটে উঠার পর ৩০ মিনিট না ফুটলে জীবাণুটা কিছু হয় না। আমি পানি ফুটাতে দিলাম, ১০ মিনিট পরে পানি ফুটলো, নামিয়ে ফেললাম, তাহলে জীবাণু তো মরবে না। এই সোর্স হলো টাইফয়েডের জীবাণু ছড়ানোর সোর্স। এগুলোকে প্রতিরোধ করাই হলো টাইফয়েড ঠেকানোর উপায়।

আক্রান্ত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে টাইফয়েডের জীবানু নির্গত হয় এবং তা পানি ও খাবারের মাধ্যমে সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করে।এ ক্ষেত্রে পানি অথবা খাবারে অবস্যই এক লাখের বেশী জীবানু থাকতে হবে।

অনেকের মধ্যেই ধারনা যে ঠান্ডা লেগে টাইফয়েড হয়।এটা একটা ভুল ধারনা। টাইফয়েড এর সাথে ঠান্ডার কোনও সম্পর্ক নেই।

অনেকেই মনে করেন যে দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে টাইফয়েডে রুপান্তরিত হয়। এটা সত্যি নয়। যে টাইফয়েড সে প্রথম থেকেই টাইফয়েড। সালমোনেলা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত।

নিউমোনিয়া তেমনি সম্পূর্ণ আলাদা একটি রোগ।নিউমোনিয়া (ইংরেজি: Pneumonia) ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি রোগের নাম।ইহা হল ফুসফুসের প্যারেনকাইমার প্রদাহ বিশেষ। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। নিউমোনিয়া মৃদু বা হালকা থেকে জীবন হানিকরও হতে পারে। নিউমোনিয়া ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিদের, যারা দীর্ঘদিন রোগে ভুগছেন অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা কম তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে তরুণ, অল্প বয়স্ক, স্বাস্থ্যবান লোকদেরও নিউমোনিয়া হতে পারে। ফুসফুসে স্ট্রেপটোকক্কাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া কিংবা শ্বাসযন্ত্রের সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) সংক্রমণ ঘটালে ফুসফুস ফুলে ওঠে, ভরে ওঠে পুঁজে বা তরল পদার্থে, যা অক্সিজেন গ্রহণ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তখন ফুসফুসে প্রদাহ হয়।

কাজেই নিউমোনিয়া হলে শ্বাসকষ্ট হয়। এর সাথে ঠান্ডার সম্পর্ক আছে।

সুতরাং টাইফয়েড- নিউমোনিয়া নামে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনও রোগ নেই এরা সম্পূর্ন আলাদা দুটি রোগ। রোগের কারন, উপশর্গ এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com