বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

নোটিশ :
বাউফল নিউজ ওয়েবসাইটে আপনাদের স্বাগতম
আলাওল থেকে নজরুল:

আলাওল থেকে নজরুল:

ফারুক ওয়াসিফ

তাঁর অনেক নাম। গত একুশে বইমেলায় প্রকাশিত নজরুল-জীবনী ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত’ বইয়ে গোলাম মুরশিদ জানিয়েছেন কিছু নামের কথা: দুখু মিয়া, নজর আলি, নাজির আলি। নামগুলো আসলে নামহীন-গোত্রহীন এক জীবনের তুচ্ছতার কথা বলে। পরে তিনি নেন ‘নাজিরুল ইসলাম’ ও ‘কাজী নজরুল ইসলাম’ নাম। কি মুসলমান কি হিন্দু, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মহল এমন কেতাবি নাম ছাড়া কাউকে সম্মান করতো না। নামের বিবর্তন থেকে বোঝা যায়, দিনে দিনে তিনি অনামা থেকে ‘নাম-করা’ সারিতে উঠে আসছেন। কিন্তু দুঃখের দহনে পোড়া ‘দুখু মিয়া’র জীবন আগের মতোই দুঃখেরই থেকে গেছে। রুটির দোকানের কর্মী, দারোগার বাড়ির ফরমাশ-খাটা বালক থেকে হাবিলদার হয়েছেন সেনাবাহিনীর। হয়েছেন লেটোর গানের দলের স্যাঙাত, দূরদেশের রণাঙ্গনের সৈনিক, হয়েছেন সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং কারাভোগী বিপ্লবী। নজরুলের জীবন তাঁর সাহিত্যের মতোই চমক লাগানো।

এত পরিচয় সত্ত্বেও বাঙালির মনে দুখু মিয়া অতি চেনা কবিয়ালের রূপে স্থায়ী হয়েছেন। বুকের একপাশে চাদর জড়ানো, সুদর্শন গোঁফ ও বাবরি চুলের নজরুলের যে বাহার, তা বাংলার কবিয়ালের চিরায়ত ছবিকেই মনে জাগিয়ে তোলে। তাঁর স্বভাবের গীতল উচ্ছ্বাস কবিয়াল ছাড়া আর কার? নিম্নবর্গের ইতিহাস ধারার গুরু রণজিৎ গুহ গান্ধীর পোশাকের মধ্যে গুজরাতি কৃষকের আদল দেখতে পেয়েছিলেন। নজরুলের মধ্যে আমরা দেখি বাংলার লোককবিদের মর্মজ্বালা। একেবারে কৃষক আবহ থেকে উঠে এসে তিনি উচ্চবর্গের মহলে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। বাংলা ভাষার ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কবিয়াল নজরুল। সর্বজনের সারি থেকে উঠে আসা নজরুলের মনে এক চির দুখু মিয়ার বসবাস।

এক প্রতিভাধর দুখী কবিয়ালের এ রকম গরীয়ান উত্থান বিশ্বসাহিত্যেই বিরল ঘটনা। করুণ চালচুলার ঘর থেকে বেরিয়ে এমন অসাধারণ আলোর ঝলকানির জন্য যে তীব্র আত্মশক্তির প্রয়োজন, তাঁর সময়ে বা পরে আর কারও মধ্যে দেখা যায় কি?

এদিক থেকে নজরুল আরেক মহাকবি আলাওলের পরের মহান সাধক। আলাওলের জন্ম ফরিদপুর এলাকায়, আনুমানিক ১৬০৭ সালে। পর্তুগিজ জলদস্যুরা তাঁকে অপহরণ করে আরাকানে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। তিনিও সাধারণ সৈনিক পদ থেকে আরাকান রাজসভার প্রধান কবিতে পরিণত হন। খেয়াল করার বিষয়, মধ্যযুগের সুলতানি আমলের বাংলা আর আরাকানেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ফুলে-ফলে ভরে ওঠে। দুই বেলাতেই মুসলমান কবিরা ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে রোমান্টিক প্রেম মিশিয়ে মানবীয় প্রেমের জাগরণের পথ খুলে দেন। নজরুলও আলাওলের মতোই প্রজ্ঞাবান। দুজনের সাহিত্যেই বুদ্ধি ও আবেগের নিপুণ লীলার স্বাদ পাওয়া যায়। আলাওল মধ্যযুগের বাংলা কবিতা শুধু নয়, ভারতীয় ভাষাগুলোর কবিদের মধ্যে একজন শিরোমণি ছিলেন, নজরুলও গত শতাব্দীর বিরাট কীর্তিমান কবি। আলাওল আরবি, ফারসি, হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষার সুপণ্ডিত ছিলেন। ব্রজবুলি ও মঘী ভাষাও তাঁর আয়ত্তে ছিল। তারপরও তিনি বাংলাকেই বেছে নিয়েছিলেন। নজরুলও আরবি, ফারসি, সংস্কৃত ভাষা ও ছন্দের রসে বাংলা ভাবজগৎকে আরো সুফলা করেছেন।

নজরুল নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। তাঁর বিদ্রোহী সত্তার গুণগান আমরা অনেক দিন করে যাব, বলব তাঁর কারাভোগ, আমরণ অনশনের কষ্টভোগ, দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া জীবন এবং অকালে স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার ট্র্যাজেডির কথা। বলব, তিনি কবি বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশদের কীভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মোহনী প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজস্ব কাব্য ও ভাষা খোঁজার প্রেরণা হয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যযুগের পর বাংলা কবিতায় বিবাগি প্রেমভাবকে আবার জাগানোর অবদানের কথা কি আমরা খুব একটা বলি?

বৈষ্ণব গীতিকবিতার প্রেম কখনো অতিকামজ আবার কখনো তা ঈশ্বরপ্রেমেরই ছায়া। রবীন্দ্রনাথের প্রেম অনেক বিমূর্ত এবং সেই প্রেমও ঈশ্বরপ্রেমে উত্তরিত হতে চায়। রূপের তৃষ্ণা আকারের আকাংখা সেখানে যেন নিস্তেজিত। মধ্যযুগের পর নজরুলের মানসে আবার জাগল দিওয়ানা হওয়ার জোশ। এই প্রেম কাম ও মিলনের উচ্ছ্বাসে ভরপুর, আবার গজল ও রুবাইয়ের ত্যাগী ভাবরসে টলমল। নীরদ সি চৌধুরী বাঙালি জীবন ও কাব্যে রোমান্টিক প্রণয় ছিল না বলে দাবি করেছেন। নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকে আমলে নিলে হয়তো তিনি তাঁর মত পাল্টাতে চাইতেন।

অজ্ঞাত কারণে মায়ের সঙ্গে চিরবিচ্ছেদ হয়। আবার জেল থেকে তাঁকেই লিখতেন চিঠি। হয়তো কেউ পড়িয়ে দিতেন মাকে। জেলে অনশনের সময় সেই মায়ের সঙ্গেই দেখা করেননি। অথচ জগতে তিনি মা সন্ধান করে গেছেন। স্নেহক্ষুধার্ত এই তরুণ মা ডেকেছেন কতজনকে! কিশোর নজরুল প্রেমে পড়েছিলেন এক কিশোরীর। সেনাবাহিনীতে গিয়েছিলেন সেই মেয়েটির চুলের কাঁটা বুকে নিয়ে। তিন বছর ধরে লালন করা সেই কাঁটা নিয়েই ফিরেছিলেন কলকাতায়। জীবনের প্রথম বই ব্যথার দান উৎসর্গ করেছিলেন সেই মেয়েটিকেই। প্রেমের বিরহে গড়া তাঁর সুর।

কাজী নজরুল বাংলা ভাষার রাজ্যে যা করেছেন, তা করেছেন। কিন্তু তাঁর আবির্ভাব ছাড়া বিশ শতকের গোড়ার মুসলমান বাঙালির সাহিত্যসাধনার আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং ভেতর-বাহিরের বাধা দূর করা অনেক পিছিয়ে যেত। কারণ, পলাশীর পরাজয়ের পর ইংরেজরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চলন-বলনটাই শুধু বদলে দেয়নি, তারা সর্বতোভাবে বাংলার মুসলিম বিদ্বজ্জনের জীবন ও সাহিত্যচর্চা কঠিন করে তুলেছিল। পলাশিযুদ্ধের পরের দেড় শ বছর বাঙালি মুসলমানদের দিশাহারা দশার পর নজরুলের উদয় তাই যুগান্তকারী ঘটনা।

নজরুলকে বড় করতে রবীন্দ্রবিরোধিতা কেবল সংকীর্ণতাই নয়; তা হীনম্মন্যতার প্রকাশ। বাঙালি মুসলিমের এই হীনম্মন্যতা আর বাঙালি হিন্দুর উচ্চম্মন্যতা দুটোই নজরুলকে পর করে রাখে। নজরুল বিরাজ করেছেন অন্যদের থেকে ভিন্ন সমতলে, তাই তুলনা অকাজের। আমাদের দেখতে হবে গুণ ও লক্ষণ, প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠান নয়।

বাঙালি সংস্কৃতির দুই ধারা কোথাও যদি মেলে, সেটা নজরুলের জীবন, সংস্কৃতি এবং সৃষ্টির মধ্যেই। ধর্মান্তর না করেই দোলন ওরফে প্রমীলা দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ, চেতনার মধ্যে হিন্দু-মুসলিমের যুগল ভাব এবং অপরকে আপন করার লালনীয় উদারতা এবং ভারত ও পারস্য দুনিয়ার ভাবকে এক জায়গায় মেলানোর বিশ্বজনীনতা সত্যিই বিরল। তিনি চিন্তাকে আবেগায়িত করেছেন, আবেগকে করেছেন চিন্তাধর। একই কথা খাটে তাঁর রাজনীতির বেলায়ও। রাজনীতিকে আবেগায়িত আর আবেগকে রাজনীতি-জারিত করায় তিনি বেজোড়ই বটে।

প্রবণতার বিচারে নজরুল কেবল বাঙালি মুসলমান বা বাঙালি জাতির জন্যই নয়, ভারতীয় মাপেই মুক্তিকামী চিত্তজাগরণের পথিকৃৎ। আরেকটি দিক থেকেও নজরুল মুক্ত মানবের প্রতিনিধি। আর সব বিদগ্ধ ও কর্মীপুরুষ যেখানে কোনো না কোনো ভাবে উপনিবেশবাদী পশ্চিমের বশ্যতা বা মুগ্ধতা লালন করেছেন, জীবনের কোনো পর্যায়েই নজরুল তা মানেননি। মনকে তিনি মুক্ত রাখতে পেরেছিলেন। তিনি ইংরেজের নির্যাতন বরণ করেছেন, স্বধর্মীয়দের গালমন্দ শুনেছেন, পরধর্মী স্বজাতির উপেক্ষা সয়েছেন। কোনোভাবেই তিনি কায়েমি রাজনৈতিক ও সম্পত্তি ব্যবস্থার অংশ ছিলেন না। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় যে তেজস্ক্রিয় মুক্ত ‘আমি’র জয় দেখি, তার কাছাকাছি অচলায়তনভাঙা অষ্মিতা ভারতবর্ষে কেন, বিশ্বসাহিত্যেই বিরল।

নজরুলের জীবন ও সাহিত্যে যে বাঁধনছেঁড়া পুরুষকার দেখি, তা আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী। যার মনে এত তীব্র ভালোবাসা, বিদ্রোহ আর ট্র্যাজিক আত্মচেতনা দপদপ করে, তাকে ধারণ করার সমাজ কই? তাকে তো স্বাভাবিকতার বাইরে বোবা ও অপ্রকৃতিস্থই হতে হবে। বাঙালি ভাবুক ও ভাবালু। নজরুল এ দুটির কোনোটিই নন; কিন্তু সংবেদন আর উচ্ছ্বাস দিয়ে তিনি চিন্তাকে ছাপিয়ে এমন এক সত্যে পৌঁছান; চিন্তায় যা তখনো ধরা যায়নি। নিম্নবর্গের নজরুল, বোহেমিয়ান নজরুল, বিপ্লবী নজরুল, যাত্রার নায়ক নজরুল, গায়ক-অভিনেতা নজরুল, পল্টনের নজরুল, প্রেমিক নজরুল, বৈষ্ণব ও সুফি নজরুল—জীবনের যত পথে নিজেকে আবিষ্কার ও নিঃশেষ করেছেন, কোনো সনাতন ব্যক্তিপুরুষের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। রবীন্দ্রনাথ যদি দেখতে পেতেন, তাহলে গোরার মতো কাল্পনিক আদর্শবাদী ইউটোপিয়া তৈরি না করে নজরুলকেই তাঁর উপন্যাসের নায়ক করতেন।

প্রথম কবিতা প্রকাশের পর শতবর্ষ হতে চলল। তবু ফেরারি আজও; ঘরে ফেরা হয়নি দুখু মিয়ার। যেটুকু করেন বিদ্বানরা, সেটা সহানুভূতি! আহারে নজরুল, আহারে অকালসমাপ্তি! কিন্তু তিনি অল্প সময়েই যা, তার মধ্যে কোন ভাবের ইশারা তার হিসাব বোধহয় এখনো বাকি। সাধারণের তাতে অসুবিধা হয়নি। আঁতে আর আত্মায় নজরুল ঠিকই তাদের ছুঁয়ে আছেন।

আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে অসাম্প্রদায়িক হওয়াকেই প্রধান সাংস্কৃতিক লক্ষ্য ও গুণ হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ ইতিহাসের যাঁরা ‘বৃহৎ’ পুরুষ, তাঁদের বেশির ভাগেরই অপর সম্প্রদায়ের প্রতি যদি ঘৃণা না রাখেন, তো দূরত্ব-সীমানা লালন করেন। নজরুল একাত্মায় মুসলমান ও হিন্দুর প্রতি ভালোবাসা পুষেছেন। লালন ফকির অন্য যুগ-জগৎ-দর্শনের মানুষ। তাঁর পরে আধুনিক যুগে নজরুল প্রায় একমাত্র, যিনি হিন্দু-মুসলিম উভয়কে চুলের দুই বেণির মতো জড়িয়েছেন। আর সেই বেণি যে কেশরাজির অংশ, সেটা হলো সর্বজনের প্রতি ভালোবাসা। নজরুল তাই সত্যিকার সর্বজনপ্রতিম।

বদরুদ্দীন উমর ১৯৬৮-৬৯-এ এই কথা জোরের সঙ্গে বলেছিলেন তাঁর ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ বইয়ে। নজরুলের মধ্যে এবং তাঁর পথেই সাম্প্রদায়িকতার ব্যাধিমুক্তির সম্ভাবনা দেখেছিলেন। নজরুল সম্প্রদায়কে অস্বীকার করেননি, অস্বীকার করেছেন সম্প্রদায়পরায়ণতাকে। সম্প্রদায়ের বাইরে চলে যাওয়ার অসাম্প্রদায়িকতা তাঁর পথ না, বরং সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই সর্বসম্প্রদায়ের হওয়াই ছিল তাঁর পথ। তাঁর মতো ‘প্রগতিশীল’ আমরা হতে পারিনি বলেই হয়তো জনবিচ্ছিন্নতার সুড়ঙ্গ আমাদের টানতে পেরেছে। হিন্দু ও মুসলিমের সংস্কৃতি, ইতিহাস আর চেতনকে তিনি যেভাবে আত্মস্থ করেন, তার রস সংস্কৃতির মধ্যে চারিয়ে দিতে চেয়েছেন, সেটাই ‘বাঙালি সংস্কৃতির’ সফল ও সপ্রাণ এক আদল। সাহিত্যবিচারের পুরোনো মাপকাঠি কিংবা উচ্চমার্গীয় এলিট নন্দনতত্ত্বের দর্পণে নজরুলের এই রূপ ধরা পড়বে না। পড়েনি বলেই তাঁকে নিয়ে মুখস্থ কথাই বেশি বলা হয়।

আজও রবি ঠাকুর আর নজরুলকে ভাগাভাগি করা চলছে আড়াআড়ি ও খাড়াখাড়িভাবে। রবি কারও মনের মানুষ, কারও ঠাকুর। নজরুল কারও বিপ্লবী কারও জেহাদি জোশের উৎস। গভীরে খুঁড়লে নজরুলকে ভাগ করা কঠিন, আবার তাঁর প্রকৃত মর্মে তাঁকে উদ্ধার করাও সহজ কাজ নয়। নজরুল তাই আজও ফেরারি।

তাহলে ফেরারি কবিকে কীভাবে ‘জাতীয় কবি’ করা হয়? উত্তর হলো, বোবা করে দিয়ে। নজরুল শেষ বয়সে বোবা হয়ে গিয়েছিলেন নিয়তির পরিহাসে, মস্তিষ্ক শুকিয়ে আসার রোগে। আর আমরা তাঁর জবান আটকে করছি ভণ্ডামির পরিহাস। কিন্তু শোকের চল্লিশ দিন পর যেমন কথা বলে ওঠে শোকতপ্ত মানুষ; শতবর্ষের নীরবতার পর নজরুলও ঠিক রব করে উঠবেন তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রবল অহমিকা নিয়েই। সেটাই হবে তাঁর স্ব-ভাবে প্রত্যাবর্তন, দেশে ফেরার মহান কীর্তন।

ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক। সূত্র:প্রথম আলো ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2018 Bauphalnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com